রংপুরের গঙ্গাচড়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কটুক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর তা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যু বানানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এবং উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশের কিছু শীর্ষ গণমাধ্যম—প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও সন্তোষ শর্মার কালবেলা। এ সুযোগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।
শনিবার বেদগাড়ারি ইউনিয়নের আলদাপুর গ্রামে রঞ্জন কুমার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে রাসূল (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা রঞ্জনের বাড়ি ভেবে তার চাচার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে একদল লোক এসে ভাঙচুর করে চলে যায়, আধঘণ্টা পর আবার আরেকদল আসে এবং একইভাবে ক্ষয়ক্ষতি করে। রঞ্জনের চাচি বলেন, “মেম্বার ফোনে জানায় রঞ্জনের পোস্টের বিষয়টি, এরপর রঞ্জনকে নিয়ে তার চাচা থানায় যান। কিন্তু রঞ্জনের বাড়ি মনে করে আমাদের বাড়িতেই কয়েক দফা হামলা চালানো হয়।” এটা তাদের কথা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি গঙ্গাচড়ার এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, হামলার ঘটনাটি একটি মাত্র বাড়িতে ঘটেছে এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিপত্তি ঘটে যখন প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাড়িটি মেরামতের জন্য টিন বরাদ্দ দেয়। এরপর আরো অনেক পরিবার তাদের বাড়ির বেড়া ও টিনের চাল খুলে রেখে দাবি তোলে যাতে তারাও সহায়তা পায়। এবং তারাও সাহায্য পায়।
সাংবাদিকের দাবি, “প্রথম আলো পরিকল্পিতভাবে সংবাদে অতিরঞ্জিত ও বানোয়াট তথ্য জুড়ে দেয়, যাতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।”
পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে উত্তেজনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার জহির রায়হান ও কালবেলার প্রতিনিধি রেজোয়ান রনির বিরুদ্ধে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামকে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিক হয়েও তাদের এমন আচরণ দুঃখজনক। আমাদের অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উস্কানি দেওয়া নয়।”
মামলার অগ্রগতি। হামলার ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানায় ১,২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনানিতে গঙ্গাচড়া থানার ওসি আল ইমরান আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় দাঙ্গা উসকে দেয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও লালমনিরহাটে একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল।
/বাংলা এডিশন