আফগানিস্তানের নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে মিথ্যা তথ্য
আফগানিস্তানের নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য প্রচার করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংবাদে আইনটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন সেখানে অপরাধের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষের সামাজিক শ্রেণি অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। শিরোনাম থেকেই আপত্তিকর ধারণা তৈরি হলেও, আইনের ভেতরের বক্তব্য ও ফিকহি প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি করা হচ্ছে।
আইন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আফগানিস্তানের অধিকাংশ জনগণ মুসলমান এবং বড় একটি অংশ হানাফি মাযহাবের অনুসারী। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন ফৌজদারি আইনটি হানাফি ফিকহের ‘তাযীর’ নীতির আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইসলামী ফৌজদারি আইনে শাস্তির দুটি ধরণ রয়েছে—হদ ও তাযীর। হদ শাস্তি নির্ধারিত ও সবার জন্য সমান। চুরি, যিনা, মদ্যপান ও যিনার অপবাদসহ হুদুদ সংক্রান্ত অপরাধে আইন প্রয়োগে কোনো বৈষম্যের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে তাযীর হলো এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, যেখানে অপরাধের ধরন, অপরাধীর অবস্থা, অপরাধের সামাজিক প্রভাব এবং সংশোধনের প্রয়োজন বিবেচনা করে বিচারক শাস্তি নির্ধারণ করেন। এখানে মানুষের সামাজিক মর্যাদা বা অধিকারভিত্তিক শ্রেণিবিভাজনের কথা বলা হয়নি; বরং অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী বিবেচনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, একই অপরাধে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির জন্য ভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইন সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, এতে কোনো স্থায়ী বা বৈষম্যমূলক শ্রেণিবিন্যাস নেই; বরং বিচারকের বিবেচনাধিকার ফিকহি কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য অপরাধীর সংশোধন ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
এছাড়া, ধর্মীয় আলেমরা শাস্তির বাইরে থাকবেন—এমন দাবি করেও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইনটির ভুল উপস্থাপন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়, ছোটখাটো অপরাধে উপদেশ যথেষ্ট হতে পারে, আবার গুরুতর অপরাধে আলেমদের ক্ষেত্রেও তাযীর শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। পার্থক্য দায়মুক্তিতে নয়, বরং শাস্তির পদ্ধতিতে।
আইনে প্রথমবার অপরাধ ও বারংবার অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে শাস্তি ও বিচারিক বিবেচনায় তারতম্য হতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু গণমাধ্যম ‘দাস’ বা ‘গোলাম’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আইনটি দাসপ্রথা ফিরিয়ে এনেছে বলে দাবি করেছে। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব শব্দ ফিকহি গ্রন্থে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত পরিভাষা, বর্তমান সমাজে মানুষকে দাসে পরিণত করার কোনো বিধান এতে নেই।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, “শ্রেণিভিত্তিক আইন” হিসেবে যে চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে, তা ফিকহি নীতির বিকৃতি ও অতিরঞ্জিত উপস্থাপন। আইনটির উদ্দেশ্য বৈষম্য নয়; বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।