এপস্টিন ফাইলস: কী আছে এই নথিতে, কেন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন
ডেস্ক রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক
বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ নথি—যা পরিচিত হচ্ছে “এপস্টিন ফাইলস” নামে।
২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে এসব নথি জনসমক্ষে আসে, যেখানে উঠে এসেছে ক্ষমতা, অর্থ ও যৌন অপরাধকে ঘিরে একটি জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত।
প্রকাশিত তথ্যানুসারে, প্রায় ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি, সঙ্গে ২ হাজারের বেশি ভিডিও ও প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি আদালতের নথির অংশ হিসেবে উন্মুক্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) স্পষ্ট করে জানিয়েছে—এই নথিতে থাকা সব নামকে অপরাধে জড়িত হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
কে ছিলেন জেফ্রি এপস্টিন?
জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একজন প্রভাবশালী ফাইন্যান্সার। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়ন ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা সরকারিভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আজও আলোচিত।
‘ললিটা এক্সপ্রেস’ ও লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ
তদন্ত নথিতে বারবার উঠে এসেছে এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত তার মালিকানাধীন দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এর নাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিমান ও দ্বীপ ব্যবহার করেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচার এবং যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটানো হতো।
ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অনুসারে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক কিশোরীকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
নথিতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে?
আদালত-নির্দেশিত প্রকাশিত নথিতে রয়েছে—
এপস্টিন ও তার সহযোগীদের ই-মেইল ও যোগাযোগের রেকর্ড
তদন্ত সংস্থার নোট ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য
ফ্লাইট লগ ও অতিথি তালিকা
বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও বৈঠকের বিবরণ
এই নথিতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম এসেছে। তবে বিচার বিভাগ বারবার বলছে—নাম উল্লেখ থাকাই অপরাধের প্রমাণ নয়।
আলোচনায় যাদের নাম
নথিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু, হিন্দুত্ববাদী মোদি, বিশ্ব সন্ত্রাসী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ একাধিক পরিচিত ব্যক্তির নাম বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু অতীতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও একটি দেওয়ানি মামলায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছান।
অন্য অনেক নাম এসেছে সামাজিক অনুষ্ঠান, তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগ বা তদন্ত নোটের সূত্রে—যেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা দোষ প্রমাণ হয়নি।
ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল ও মামলার সূত্র
এপস্টিনের দীর্ঘদিনের সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডপ্রাপ্ত।
ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জুফ্রেসহ একাধিক নারীর দায়ের করা মামলার সূত্র ধরেই আদালতের নির্দেশে বহু নথি সিলমুক্ত হয়, যা এখন “এপস্টিন ফাইলস”-এর মূল ভিত্তি।