সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় তারাবি নামাজের সময় কিরাতে ভুল সংশোধনকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরেই ইমামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইমামের পা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি আরও চারজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামে বায়তুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ইমাম মো. আবদুল্লাহ (৫০) বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত আরও দুজন—দেলোয়ার হোসেন (৬০) ও জাহিদ হাসান (২২)—কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রমজান উপলক্ষে খতম তারাবি পড়ানোর জন্য মসজিদে দুজন হাফেজ নিয়োগ করা হয়েছিল। নামাজ চলাকালীন এক হাফেজের কিরাতে ভুল হলে তা তাৎক্ষণিক সংশোধন করে নামাজ শেষ করা হয়।
বিতর নামাজ শেষে হাফেজ মোহাম্মদ তালহা, যিনি স্থানীয় একজন তরুণ মুসল্লি, কিরাতের ভুল নিয়ে মাইকে কথা বলার জন্য মাইক্রোফোন চাইলে ইমাম তাকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তালহা ক্ষিপ্ত হয়ে ইমামকে থাপ্পড় ও ঘুষি মারেন।
স্থানীয় মুসল্লিরা তালহাকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি মসজিদের কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে ইমামসহ কয়েকজন মুসল্লি আহত হন। ইমাম মেঝেতে পড়ে গেলে তালহা তাকে সেখানেও মারধর করেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ইমাম মো. আবদুল্লাহর অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শিমুল তালুকদার জানান, “এক্স-রে করে দেখা গেছে, ইমামের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাত রয়েছে।”
কয়েকজন মুসল্লি জানান, মোহাম্মদ তালহা নিজেও একজন হাফেজ এবং তিনি ওই মসজিদে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয়রা তাকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। “গত কয়েকদিন ধরে তালহা মসজিদে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছিলেন।” – দাবি করেছেন কয়েকজন মুসল্লি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মীর মুসতাহীদ আলী জানান, “ঘটনার পর পুলিশ রাতেই তালহাকে আটক করে থানায় নেয়। তবে স্থানীয় মুরব্বিরা থানায় গিয়ে ঘটনার চূড়ান্ত বিচার করার লিখিত অঙ্গীকার দিলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।”
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক (এসআই রূপ কর) বলেন, “খবর পেয়ে আমরা অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসি। পরে স্থানীয় মুরব্বিদের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী ইমাম মো. আবদুল্লাহ বলেন, “স্থানীয় মুরব্বিরা বিচার করার আশ্বাস দেওয়ায় থানায় কোনো অভিযোগ করিনি। এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।”