কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে ঈদের সকালে দেখা গেল স্বজনদের উপচেপড়া ভিড়। কারাবন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তাঁদের পরিবার-পরিজন। অনেকেরই গায়ে নেই নতুন পোশাক, ঈদের আনন্দ থেকেও যেন তারা বঞ্চিত।
দু’বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সকাল ৮টায় হাজির হয়েছেন আসমা বেগম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১০টায় মিলেছে স্বামীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ। একইভাবে আমিনা বেগম এসেছেন ছেলের সঙ্গে দেখা করতে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বন্দি। গত বছরও ঈদে বাড়িতে ছিল, এবার জেলে ঈদ করছে। মন তো ঘরে টেকে না, তাই ছুটে এসেছি।”
কারাগারে ঈদের আয়োজন
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কারাগারে ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। বন্দিদের জন্য দিনভর ছিল নানা আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও গানের প্রতিযোগিতা। বন্দিদের ঈদের খাবারে বৈচিত্র্য এনে সকালে পায়েস ও মুড়ি, দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, রোস্ট, মিষ্টি ও সালাদ এবং রাতে সাদা ভাত, মাছ, বুটের ডাল ও ডিম পরিবেশন করা হয়।
কারাগারের এক নিরাপত্তা সদস্য জানান, ঈদের দিন যত সময় গড়ায়, স্বজনদের ভিড় তত বাড়তে থাকে। তবে সব বন্দির ভাগ্যে এমন দেখা করার সুযোগ আসে না, অনেকের স্বজনই আসেন না।
পরিবারহীন বন্দিদের জন্য বন্ধুত্বের হাত
আকমল মিয়া নামের এক ব্যক্তি জানান, গত মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। সেখানে এক বন্দির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল, যিনি পরিবারহীন। বন্ধুকে দেওয়া কথা রাখতে ঈদের দিন দেখা করতে এসেছেন কারাগারে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের কারাগারগুলোতে ৪২,৪৫০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছেন ৬০,৯১৪ জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫৭ জন ও কাশিমপুরসহ অন্যান্য কারাগারে ১২৫ জন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন।
ঈদের পরদিন বন্দিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বাসা থেকে রান্না করা খাবার আনার অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে পরিবারের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ বন্দিদের জন্য এখনো অধরা।