ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় কালেমার পতাকা অপসারণ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, NCP নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাদের এবং আরেকজন ব্যক্তি পতাকা নামিয়ে ফেলতে বলেন। কিছু অংশগ্রহণকারী তাদের নির্দেশ মানলেও, কয়েকজন শিক্ষার্থী পতাকা নামাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে “শিবির, জঙ্গি, আইএস, হিজবুত তাহরীর” বলে গালি দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যায় যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কাছে এর কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ওই দুই ব্যক্তিকে সমাবেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন NCP-এর এক সমর্থক তাদের পক্ষে এগিয়ে আসে এবং ফিলিস্তিন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে। এতে উপস্থিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে ঘিরে ফেলে। ঘটনার একপর্যায়ে NCP নেতা আব্দুল কাদের ও তার সহযোগী পেছন থেকে পালিয়ে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, NCP-এর রাজনৈতিক দর্শন ‘ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ নামক একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অনেকের মতে, এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাচ্ছে, কিন্তু এর পেছনে আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাব থাকতে পারে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এ দলটি ‘ধর্মহীনতা, সমকামিতা, ও পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রচারক’ হিসেবে কাজ করছে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তাদের মতে, NCP-এর মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যেখানে ইসলামী মূল্যবোধের গুরুত্ব কমিয়ে আনা হবে।
এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তিগুলো কীভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে সাধারণ জনগণের আরও সচেতন হওয়া দরকার। NCP-এর কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা থাকলেও, এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।