১১ এপ্রিল ২০২৫
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজন করা বিক্ষোভ মিছিলের আগেই ভিড় জমেছে পতাকা কিনতে আসা মানুষের। তবে চাহিদার বিপরীতে পতাকার অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বায়তুল মোকাররমের চারপাশে অন্তত দশজনের বেশি হকার ছোট, মাঝারি এবং বড় আকৃতির ফিলিস্তিনের পতাকা বিক্রি করছেন। সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশি পতাকা ও কালেমা খচিত সাদা পতাকাসহ মাথায় বাঁধার রিবনও। পতাকা কিনতে আগ্রহী মানুষের ভিড় যতই বাড়ছে, বাড়ছে মূল্য নিয়েও অসন্তোষ।
ক্রেতারা জানান, কিছুদিন আগেও যেসব পতাকা ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। আকার অনুযায়ী কোথাও কোথাও দাম উঠেছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
এক হকার ইব্রাহিম বলেন, “চাহিদা বেড়েছে, মাল কম—তাই দাম একটু বেশি নিচ্ছি। প্রতিদিন অনেক মানুষ পতাকা নিতে আসছে, একটু লাভ করতে চাই।”
তবে এই ‘লাভের প্রবণতা’ কে অনৈতিক বলেই মনে করছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, একটি মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যদি অতিরিক্ত মুনাফা করতে চায়, তা দুর্ভাগ্যজনক।
রবিউল ইসলাম, নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এখানে এসেছি ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু পতাকার যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারছেন না। এটি স্পষ্টভাবে আবেগের সুযোগ নেওয়া।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংকটকালে পণ্য চাহিদা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে কোনো মানবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে সহানুভূতির জায়গাকে ব্যবসায়িক লোভের হাতিয়ার না বানানো হয়।