গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং বহিষ্কৃত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে। এ সময় আদালতের প্রাঙ্গণে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে এই চারজনের বিরুদ্ধে।
রোববার ট্রাইব্যুনালের হাজত থেকে বের করে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় হাতকড়া পরানো নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় হাসানুল হক ইনু ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন,
“তোরা আমাদের হ্যান্ডকাফ পরাতে আসিস? রাজাকারের বাচ্চা, তোদের চৌদ্দগোষ্ঠী খেয়ে ফেলব। আমাদের ছেলেমেয়েরা তোদের দেখে নেবে। তোদের সব রেকর্ড রাখছি।”
পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইনু ছাড়াও শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম এবং জিয়াউল আহসান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাদের “ইসরায়েলি বাহিনীর মতো হিংস্র আচরণ” বলেও মন্তব্য করেন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব মিথ্যা, আমরা এমন কিছু বলিনি।”
আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বলেন, “যদি কোনো আসামি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যদেরও বাড়াবাড়ি না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “এই আচরণ আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ এবং আদালতের মর্যাদাহানিকর।”
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালে ইনু ও শাজাহান খানকে ইস্ত্রি করা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
প্রিজনভ্যানে তুলে নেওয়ার সময় শিশু একাডেমির পাশে অবস্থানরত জনতা আসামিদের লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
ট্রাইব্যুনালের পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ও নুরুন্নবী জানান, “আসামিরা শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, হাজতখানায় বসে মিটিং করে ফের আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।”
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা আসামিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন বলে জানান কর্মকর্তারা।
এই ঘটনায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।