ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৫: সম্প্রতি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারপত্র ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজে। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে গঠিত এই কমিশন একটি ৩১৪ পৃষ্ঠার সুপারিশপত্র প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে সেই প্রতিবেদন নিয়ে উঠেছে ইসলামবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধ্বংস করার অভিযোগ।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তথাকথিত সংস্কার কমিশন মুসলিম পারিবারিক আইন, বিয়ে, তালাক, অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ইসলামী বিধানকে পাশ্চাত্য ধারার ‘অভিন্ন পারিবারিক আইন’ এর মাধ্যমে বদলে দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কমিশনের প্রতিবেদনে একাধিক স্থানে বলা হয়েছে, ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং এগুলো সংস্কার করে ‘সমতা ও ন্যায়বিচার’-এর ভিত্তিতে একটি অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইন সংস্কারের পাশাপাশি বৈবাহিক জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্ককেও ফৌজদারি আইনে ধর্ষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করে মুসলিম দম্পতিদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও আইনি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ও বিতর্কিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে পতিতাবৃত্তিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান। প্রতিবেদনের একাধিক পৃষ্ঠায় যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি এবং পতিতাবৃত্তিকে মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশ রয়েছে।
এছাড়াও রিপোর্টে বলা হয়েছে, “শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার“, যৌন শিক্ষার প্রসার, গর্ভপাত বৈধকরণ এবং রাষ্ট্রকে ‘ইহজাগতিক’ রূপে প্রতিষ্ঠার আহ্বান তোলা হয়েছে—যা ধর্মনিরপেক্ষতার চরম রূপ বলেই মনে করছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব সুপারিশকে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন এবং এটি পাঠ্যপুস্তকের মতো করে ছাপিয়ে বিতরণের আহ্বান জানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ধর্মীয় নেতারা বলছেন, এইসব প্রস্তাব শুধুমাত্র ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত নয়, বরং মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস, পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক নৈতিকতার ওপর সরাসরি আক্রমণ। তারা এ ধরনের সংস্কার প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে কমিশন বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ ও আলেম সমাজ এই কমিশনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।