নান্দাইল (ময়মনসিংহ), ২৯ এপ্রিল:
নান্দাইল উপজেলার ঘাটা এলাকায় মাজহারুল ইসলামকে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আন্দোলনে সক্রিয় এই যুবক জানান, ঈদের পর থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে একাধিকবার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও দল অনুসরণ করেছে। সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল রাত প্রায় বারোটায় তিনি হামলার শিকার হতে হতে রক্ষা পান বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলাম জানান, ঈদের পর থেকে তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যে বাজার করতে আঠারো বাড়ী বাজারে যান এবং ফেরার পথে একাধিকবার অপরিচিত ব্যক্তিরা তাকে অনুসরণ করে। প্রথমবার দুজন ব্যক্তি তাকে ফলো করলেও বাইক আসায় তারা সরে যায়। পরবর্তীতে তিনজন ব্যক্তি একইভাবে অনুসরণ করে, তবে আগেই একজন পথচারী দেখে তারা পিছু হটে।
গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জ থেকে ফেরার পথে গাড়ি না পাওয়ায় তাকে বাধ্য হয়ে সেই পুরনো পথেই হাঁটতে হয়। ঘটনাস্থল ছিলো বঙ্গবাজার সংলগ্ন ঘাটা হিন্দু বাড়ী রোড। অন্ধকার রাস্তায় হঠাৎ তিনজন মুখ ঢাকা ব্যক্তি রাস্তার মাঝখানে অবস্থান করে। তাদের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার পর তারা উঠে দাঁড়িয়ে লাঠি হাতে ধাওয়া করে। আতঙ্কে দৌঁড়ে পালানোর সময় তারা গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে লাঠি ছুঁড়ে মারে, যা তার গায়ে না লাগলেও তিনি খুবই ভীত হয়ে পড়েন।
ফোনে চার্জ না থাকা সত্ত্বেও কৌশলে ফোন কানে ধরে চাচাতো ভাইদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন এবং “স্যার স্যার” বলে শব্দ করে যেন মনে হয় তিনি পুলিশে কল দিয়েছেন। এতে তারা পিছু হটে এবং তিনি বাড়ির কাছাকাছি আসতেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী যুবক দাবি করেন, তিনি জুলাই মাসে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং তার পরিচিতজনরা জানেন তিনি এই কাজে সক্রিয় ছিলেন। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এমন হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আজ প্রাণে বেঁচে গেছি, কিন্তু এইভাবে আর কতদিন চলবে? পরিবার এসব জানে না, জানলে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। রাষ্ট্র কি আমাদের নিরাপত্তা দেবে না?”
তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে যেন এখনই ভাবা হয়, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”