ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের মুখে পার্লামেন্ট ভবন ছাড়লেন নরেন্দ্র মোদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তরুণ ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর তীব্র বিক্ষোভ ও ‘সংসদ ভবন অভিযান’ কর্মসূচির মুখে কড়া নিরাপত্তায় ভারতীয় পার্লামেন্ট ত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার, বিতর্কিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET)সহ বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ কর্মসূচির ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বলয়ে মোদির প্রস্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সরকারের শীর্ষ নেতারা যখন সংসদ ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন, তখন বাইরে হাজার হাজার ছাত্র-তরুণের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সংসদ ভবনের অতি নিকটবর্তী রাইসিনা রোড এলাকায় পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এরপর স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-এর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর দ্রুত সংসদ ভবন এলাকা ত্যাগ করে।
টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও দিল্লিতে কড়াকড়ি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ চালায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন—জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বর্তমানে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রেখে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি (হিন্দুস্তান টাইমসের বরাত)